সাদা পোশাকে ব্যাট হাতে রানের স্রোত বইয়ে চলেছেন স্টিভেন স্মিথ। পাঁচ টেস্টে উপহার দিলেন চতুর্থ সেঞ্চুরি, চলতি সফরে টানা দুই ম্যাচে দুটি। এই সংস্করণে প্রথমবার পাঁচে ব্যাটিংয়ের সুযোগ পেয়ে তিন অঙ্কের উষ্ণ ছোঁয়া পেলেন অ্যালেক্স ক্যারি। তাদের অবিচ্ছিন্ন জুটিতে দারুণ একটি দিন কাটাল অস্ট্রেলিয়া।
গলে দ্বিতীয় টেস্টে শুক্রবার শ্রীলঙ্কার প্রথম ইনিংস ২৫৭ রানে থামিয়ে ব্যাটিং করছে অস্ট্রেলিয়া। ৩ উইকেটে ৩৩০ রান করে দ্বিতীয় দিন শেষ করেছে তারা। লিড নিয়েছে ৭৩ রানের। সফরকারীদের বড় পুঁজির ভিত গড়ে দিতে স্মিথ ও কেয়ারি চতুর্থ উইকেটে ২৩৯ রানের অবিচ্ছিন্ন জুটি গড়েছেন। এশিয়ায় চতুর্থ উইকেটে এখন পর্যন্ত অস্ট্রেলিয়ার যা তৃতীয় সর্বোচ্চ। ক্যারিয়ারের ৩৬তম টেস্ট সেঞ্চুরিতে স্মিথ খেলছেন ১২০ রানে, ছক্কা একটি ও চার ৯টি। এশিয়ায় এটি তার সপ্তম শতক, অস্ট্রেলিয়ানদের মধ্যে সর্বোচ্চ।
প্যাট কামিন্সের অনুপস্থিতিতে এই সিরিজে অস্ট্রেলিয়াকে নেতৃত্ব দিচ্ছেন স্মিথ। অধিনায়ক হিসেবে তারকা এই ব্যাটসম্যান সপ্তদশ সেঞ্চুরি করলেন। এই তালিকায় তার ওপরে আছেন কেবল তিনজন- দক্ষিণ আফ্রিকার গ্রায়েম স্মিথ (২৫), ভারতের ভিরাট কোহলি (২০) ও অস্ট্রেলিয়ার রিকি পন্টিং (১৯)।
ক্যারিয়ার সেরা ইনিংসে ১৩৯ রান করে অপরাজিত আছেন কেয়ারি। টেস্টে দ্বিতীয় সেঞ্চুরি করা কিপার-ব্যাটসম্যানের ১৫৬ বলের ইনিংসটি সাজানো ২ ছক্কা ও ১৩ চারে।
৯ উইকেটে ২২৯ রান নিয়ে খেলতে নেমে ২৮ রান যোগ করে শ্রীলঙ্কা। ধৈর্যশীল ব্যাটিংয়ে ২৬ বলে ২ রান করা লাহিরু কুমারাকে দিনের অষ্টম ওভারে ফেরান ম্যাথু কুনেমান। ১ ছক্কা ও ১০ চারে ৮৫ রানে অপরাজিত থাকেন কুসাল মেন্ডিস।
ব্যাটিংয়ে নেমে সহজাত ব্যাটিংয়ে দ্রুত রান তুলতে থাকেন ট্রাভিস হেড। ৩ চারে ২২ বলে ২১ রান করা বাঁহাতি ব্যাটসম্যান নিশান পেইরিসের বলে ধরা পড়েন স্লিপে। পরের ওভারেই প্রাবাথ জায়াসুরিয়ার বলে এলবিডব্লিউ মার্নাস লাবুশেন।
৩৭ রানে ২ উইকেট হারানো দলের হাল ধরার চেষ্টা চালান প্রথম টেস্টে ডাবল সেঞ্চুরি করা উসমান খাওয়াজা ও সেঞ্চুরি হাঁকানো স্মিথ। পেইরিসের বলে ২৩ রানে স্মিথকে একবার এলবিডব্লিউ দিয়েছিলেন আম্পায়ার। রিভিউ নিয়ে যদিও বেঁচে যান ব্যাটসম্যান।
খাওয়াজা অবশ্য বাঁচতে পারেননি; পেইরিসের পরের ওভারে এলবিডব্লিউ হয়ে যান তিনি, ৩ চারে ৩৬ রান করে। ভাঙে ৫৪ রানের জুটি।
এরপর শুরু স্মিথ ও কেয়ারির জুটির পথচলা। জশ ইংলিশের পিঠে সমস্যা দেখা দেওয়ায় পাঁচে নামেন কেয়ারি। দারুণ ব্যাটিংয়ে সুযোগটি কাজে লাগান তিনি। জমে ওঠে স্মিথের সঙ্গে তার জুটি।
দ্বিতীয় সেশনে ৯৮ বলে ফিফটি করেন স্মিথ। শেষ সেশনের শুরুতে ৬৮ বলে পঞ্চাশে পা রাখেন কেয়ারি। তাদের ব্যাটে বাড়তে থাকে দলের রান।
ঘরের মাঠে ভারতের বিপক্ষে দুটি সেঞ্চুরি করা স্মিথ শ্রীলঙ্কায়ও ধরে রেখেছেন ছন্দ। গলে প্রথম টেস্টে ১৪১ রান করা এই ব্যাটসম্যান কামিন্দু মেন্ডিসকে লেগ সাইড দিয়ে চার মেরে আরেকটি সেঞ্চুরিতে পৌঁছে যান।
কিছুক্ষণ পর ৯২ থেকে জায়াসুরিয়াকে দুটি চার মেরে কাঙ্ক্ষিত তিন অঙ্কে পা রাখেন কেয়ারি। ২০২২ সালে মেলবোর্নে দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে ১১১ রানের ইনিংস খেলেছিলেন তিনি।
সেঞ্চুরির পর দ্রুত কিছু বাউন্ডারি মেরে দেড়শর কাছে পৌঁছে দিন শেষ করেন কেয়ারি। তার সঙ্গে তো স্মিথ আছেনই। দলকে কতদূর নিতে পারেন তারা, তৃতীয় দিনে সেটাই দেখার অপেক্ষা।
সংক্ষিপ্ত স্কোর:
শ্রীলঙ্কা ১ম ইনিংস: ৯৭.৪ ওভারে ২৫৭ (আগের দিন ২২৯/৯) (মেন্ডিস ৮৫*, কুমারা ২; স্টার্ক ১৬-৩-৩৭-৩, কুনেমান ৩৩.৪-৯-৬৩-৩, লায়ন ৩৪-৫-৯৬-৩, ওয়েবস্টার ৩-০-১৩-০, কনোলি ৩-১-১২-০, হেড ৮-০-৩১-১)
অস্ট্রেলিয়া ১ম ইনিংস: ৮০ ওভারে ৩৩০/৩ (হেড ২১, খাওয়াজা ৩৬, লাবুশেন ৪, স্মিথ ১২০*, কেয়ারি ১৩৯*; কুমারা ৭-১-৩৭-০, ধানাঞ্জায়া ৫-০-১৮-০, পেইরিস ২১-২-৭০-২, জায়াসুরিয়া ২৫-৩-১০৭-১, রামেশ ১৯-০-৭০-০, কামিন্দু ৩-০-১৮-০)