টেস্ট ক্রিকেটে দিমুথ করুণারত্নের শেষ ইনিংস স্মরণীয় হয়ে রইল সতীর্থদের ভালোবাসায়। ব্যাটিং পার্টনার দীনেশ চান্দিমাল তাকে থামালেন বিদায়ের আগে। প্রায় দেড় দশক ধরে একসঙ্গে খেলা দুই সতীর্থ বুঝতে পারছিলেন, আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে আর কখনো একসঙ্গে ব্যাট করা হবে না। করুণারত্নে যখন ফিরছিলেন প্যাভিলিয়নে, তখন চান্দিমাল তাকে কাছে টেনে আবেগঘন আলিঙ্গন করেন। দর্শকরাও এই ভালোবাসার মুহূর্তটি মিস করেননি।
করুণারত্নে যখন মাঠ ছাড়ছিলেন, দর্শকরা দাঁড়িয়ে করতালি দিয়ে তাকে বিদায় জানান। কিন্তু করুণারত্নে হয়তো বুঝতে পারছিলেন আরও একটি আলিঙ্গন আসছে। মাঠের প্রান্তে দাঁড়িয়ে থাকা অ্যাঞ্জেলো ম্যাথুস অপেক্ষা করছিলেন, যেন করুণারত্নে পুরো মনোযোগ পান। করুণারত্নে মাঠ ছাড়ার সঙ্গে সঙ্গে ম্যাথুসও তাকে আলিঙ্গনে আবদ্ধ করেন।
এই মাঠেই ২০১২ সালে করুণারত্নের টেস্ট অভিষেক হয়েছিল। প্রথম ইনিংসে শূন্য রানে আউট হওয়ার পর ড্রেসিং রুমে ম্যাথুসই প্রথম তাকে সান্ত্বনা দিয়েছিলেন। করুণারত্নে বলেন, “আমি যখন মন খারাপ করে বসেছিলাম, তখন অ্যাঞ্জি এসে বলেছিলেন যে তিনিও তার প্রথম ইনিংসে শূন্য করেছিলেন।”
শ্রীলঙ্কার ক্রিকেটে একটি যুগের অবসান ঘটতে চলেছে। করুণারত্নে ইতিমধ্যেই জানিয়ে দিয়েছেন, আসন্ন ১৫ মাসে মাত্র দুটি টেস্ট রয়েছে। তার বয়স তখন ৩৮ হবে। ম্যাথুস ৩৯ ছুঁই ছুঁই এবং চান্দিমাল হবেন ৩৬। এদের মধ্যে শুধুমাত্র চান্দিমালই এখনও সীমিত ওভারের দলে বিবেচিত হন, যদিও ২০২২ সালের পর তিনি কোনো ওয়ানডে বা টি-টোয়েন্টি খেলেননি।
এই বিদায় হয়তো দিলশান, জয়বর্ধনে, সাঙ্গাকারা কিংবা হেরাথের যুগের মতো প্রভাব ফেলবে না, তবে এটি শ্রীলঙ্কার টেস্ট ক্রিকেটের একটি গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়। করুণারত্নের বিদায়ের পর প্রশ্ন উঠছে ম্যাথুস ও চান্দিমালের ভবিষ্যৎ নিয়ে। ম্যাথুস কি সত্যিই আরও একটি বছর অপেক্ষা করবেন, নাকি বাংলাদেশের বিপক্ষে সিরিজেই বিদায় নেবেন? অন্যদিকে, ৫০.১৮ গড় নিয়ে চান্দিমাল এখনও একটি বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপ চক্র খেলতে প্রস্তুত।
তবে বয়সের সঙ্গে পারফরম্যান্সের প্রতিটি রানকেই এখন তারা বিশেষ মূল্যবান হিসেবে দেখেন। প্রথম ইনিংসে চান্দিমাল ৭২ রান করেন এবং দ্বিতীয় ইনিংসে ম্যাথুস ৭৬ রান করেন, যা অস্ট্রেলিয়াকে আবার ব্যাট করতে বাধ্য করেছিল।
কিন্তু প্রশ্ন থেকেই যায়—যদি আগামী টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপে শ্রীলঙ্কা দ্বিতীয় সারিতে নেমে যায়? যদি টেস্ট ম্যাচ আরও কমে যায়? এটি কি শুধুই এই প্রজন্মের বিদায়, নাকি শ্রীলঙ্কার টেস্ট ক্রিকেটেরও অবসান শুরু?
তবে আপাতত এই প্রজন্মের শেষ সময়কে উপভোগ করাই সঠিক। ম্যাথুস ও চান্দিমালের বিদায় আসবে পরবর্তীতে। কিন্তু এই মুহূর্তটি ছিল করুণারত্নের বিদায়কে ভালোবাসায় ভরিয়ে তোলার।
আশা করা যায়, শুধু ক্রিকেট ক্যারিয়ারই শেষ হচ্ছে, শ্রীলঙ্কার টেস্ট ক্রিকেট নয়।