টেস্টে ফর্মহীন রোহিত শর্মা ফের ফিরলেন নিজের ছন্দে। প্রিয় ফরম্যাট ওয়ানডেতেই সমালোচকদের উপযুক্ত জবাব দিলেন তিনি। মাত্র ৩০ বলে ফিফটি ছোঁয়ার পর ৭৬ বলেই পূর্ণ করলেন দুর্দান্ত সেঞ্চুরি। শেষ পর্যন্ত ৯০ বলে ১২টি চার এবং সাতটি ছক্কার সাহায্যে ১১৯ রানের ইনিংস খেলে সাজঘরে ফেরেন ভারত অধিনায়ক।
রোহিতের এই বিধ্বংসী ব্যাটিংয়ে ভর করে রোববার কটকের দ্বিতীয় ওয়ানডেতে ইংল্যান্ডকে ৪ উইকেটে হারিয়ে এক ম্যাচ বাকি থাকতেই সিরিজ নিজেদের করে নেয় স্বাগতিক ভারত।
এর আগে প্রথমে ব্যাট করতে নেমে ইংল্যান্ড ৪৯.৫ ওভারে সবকটি উইকেট হারিয়ে সংগ্রহ করে ৩০৪ রান। জবাবে ভারত ৪৪.৩ ওভারে ৬ উইকেট হারিয়ে অনায়াসে লক্ষ্যে পৌঁছে যায়।
রোহিতের এই ইনিংস ভারতের জন্য বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ, কারণ আসন্ন আইসিসি চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফির প্রস্তুতিতে এটি নিঃসন্দেহে আত্মবিশ্বাস বাড়াবে।
ভারতের জার্সিতে সবশেষ ১০ ইনিংসে রোহিতের সর্বোচ্চ ছিল ১৮ রান। এর মধ্যে নয়টি টেস্ট ইনিংস। আর নাগপুরে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে প্রথম ওয়ানডেতে তিনি ২ রানে থেমেছিলেন। তবে শুধু ওয়ানডে হিসাব করলে তিনি ছন্দের মধ্যেই আছেন। এই সংস্করণে সবশেষ ১০ ইনিংসে চারটি ফিফটির পাশাপাশি চারবার তিনি আউট হন ফিফটি পেরিয়ে। এবার পেয়ে গেছেন তিন অঙ্কের স্বাদ। ২০২৩ সালের অক্টোবরে ঘরের মাঠে বিশ্বকাপে আফগানিস্তানের বিপক্ষে সেঞ্চুরির পর এটি তার প্রথম সেঞ্চুরি।
রোহিতের নৈপুণ্যে উদ্বোধনী জুটিতে রান তাড়ার ভিত মিলে যায় ভারতের। তিনি ও শুবমান গিল মিলে যোগ করেন ১০০ বলে ১৩৬ রান। আরেক ওপেনার গিল থামেন ৬০ রানে। ৫২ বলে তার ব্যাট থেকে আসে নয়টি চার ও একটি ছক্কা। চোট কাটিয়ে একাদশে ফেরা বিরাট কোহলি টিকতে পারেননি। আদিল রশিদের বলে উইকেটের পেছনে ক্যাচ দেন তিনি। ৮ বলে কোহলির রান ৫।
দ্রুত ২ উইকেট হারানোর ধাক্কা ভারতীয়দের গায়ে লাগেনি রোহিতের আগ্রাসন জারি থাকায়। তৃতীয় উইকেটে শ্রেয়াস আইয়ারকে নিয়ে তিনি যোগ করেন ৬১ বলে আরও ৭০ রান। মিডউইকেটে রশিদের দারুণ ক্যাচে থামতে হয় রোহিতকে। ততক্ষণে ২৯.৪ ওভারে ভারতের রান ২২০। বাকি পথ পাড়ি দিতে তাদের কোনো বেগ পেতে হয়নি। শ্রেয়াস ৪৭ বলে করেন ৪৪ রান। অক্ষর প্যাটেল অপরাজিত থাকেন ৪৩ বলে ৪১ রানে।
এর আগে টস জিতে ব্যাটিংয়ে নেমে দুর্দান্ত শুরু মেলে ইংল্যান্ডের। বেন ডাকেটের ঝড়ে উদ্বোধনী জুটিতে আসে ৬৬ বলে ৮১ রান। একবার লোপ্পা ক্যাচ তুলে জীবন পাওয়া আরেক ওপেনার ফিল সল্টকে আউট করে ভারতকে ব্রেক থ্রু দেন বরুণ চক্রবর্তী। ২৯ বলে ২৬ রান করেন সল্ট। ৩৬ বলে ফিফটি ছোঁয়া ডাকেটকে থামান রবীন্দ্র জাদেজা। ডাকেট ৫৬ বলে ১০টি চারের সাহায্যে করেন ৬৫ রান।
এরপর দলকে টানেন জো রুট। তিনি তৃতীয় উইকেটে হ্যারি ব্রুকের সঙ্গে ৮৩ বলে ৬৬ এবং চতুর্থ উইকেটে অধিনায়ক জস বাটলারের সঙ্গে ৫৪ বলে ৫১ রানের জুটি গড়েন। থিতু হয়ে ইনিংস লম্বা করতে পারেননি ব্রুক ও বাটলার। মিড অফ থেকে সীমানার দিকে দৌড়ে দারুণ ক্যাচ লুফে ব্রুককে সাজঘরে পাঠান গিল। ব্রুকের সংগ্রহ ৫২ বলে ৩১ রান। বাটলারের ব্যাট থেকে আসেন ৩৫ বলে ৩৪ রান।
দলীয় ২৪৮ রানে জাদেজাকে উড়িয়ে মারতে গিয়ে আউট হন রুট। ছয়টি চারের সাহায্যে ৭২ বলে ৬৯ রান করেন রুট। ওয়ানডেতে এটি তার ৫৬তম ফিফটি। এই সংস্করণে ইংল্যান্ডের হয়ে সবচেয়ে বেশি হাফসেঞ্চুরি হাঁকানোর রেকর্ড এখন এককভাবে তার দখলে। ৫৫ ফিফটি নিয়ে দুইয়ে নেমে গেছেন সাবেক অধিনায়ক ওয়েন মরগ্যান।
রুটের বিদায়ের পর লিয়াম লিভিংস্টোনের আক্রমণাত্মক ইনিংসে তিনশ পার হয় সফরকারীরা। ইনিংসের শেষ ওভারে রানআউট হন লিভিংস্টোন। ৩২ বলে দুটি করে চার ও ছক্কায় তিনি করেন ৪১ রান। এছাড়া, রশিদ তিনটি চারসহ খেলেন ৫ বলে ১৪ রানের ক্যামিও।
শেষ ১০ ওভারে দারুণভাবে ফিরে আসেন ভারতীয় বোলাররা। এই সময়ে ৭৪ রানের বিনিময়ে তারা তুলে নেন ৬ উইকেট। এতে ইংলিশরা পুরো ওভার খেলার আগেই গুটিয়ে যায়। জাদেজা ছিলেন সবচেয়ে সফল। ১০ ওভারে একটি মেডেনসহ ৩৫ রান খরচায় তিনি শিকার করেন ৩ উইকেট। একটি করে উইকেট যায় বরুণ, হার্শিত রানা, মোহাম্মদ শামি ও হার্দিক পান্ডিয়ার ঝুলিতে। শেষ তিনটি ছিল রানআউট।