ঢাকা প্রিমিয়ার লিগে (ডিপিএল) অধিনায়ক এনামুল হক বিজয়ের দুর্দান্ত সেঞ্চুরিতে ৬৫ রানের বড় জয় পেয়েছে গাজী গ্রুপ ক্রিকেটার্স। দলের বড় সংগ্রহ গড়তে সেঞ্চুরি হাঁকিয়েছেন বিজয়, ফিফটি পেয়েছেন তোফায়েল আহমেদ ও সাদিকুর রহমান। মোহামেডানের হয়ে রনি তালুকদার, তামিম ইকবাল ও মুশফিকুর রহিম লড়াই করলেও হার এড়াতে পারেনি দলটি।
বিজয়ের ব্যাটিং ঝড়, গাজীর রানের পাহাড়
বিকেএসপির চার নম্বর মাঠে টস জিতে ব্যাটিংয়ে নামে গাজী গ্রুপ। শুরুটা করেন দুর্দান্তভাবে দুই ওপেনার এনামুল হক বিজয় ও সাদিকুর রহমান। উদ্বোধনী জুটিতে ১৪১ রান তোলেন তারা। ফিফটি করে সাজঘরে ফেরেন সাদিকুর (৬০), তাকে বোল্ড করে মোহামেডানকে প্রথম উইকেট এনে দেন তাসকিন আহমেদ।
এরপর কিছুটা ধাক্কা খেলেও, দলকে বড় সংগ্রহের পথে নিয়ে যান বিজয় ও তোফায়েল আহমেদ। মাত্র ৪২ বলে ৯৮ রানের বিধ্বংসী জুটি গড়েন তারা। তোফায়েল ২৯ বলে ৬৩ রানের ইনিংস খেলে তাসকিনের শিকার হন। তবে একপ্রান্ত আগলে রেখে দারুণ সেঞ্চুরি তুলে নেন অধিনায়ক বিজয়।
তিনি ১৪৩ বলে ১২ চার ও ৪ ছক্কায় অপরাজিত ১৪৯ রান করেন। গাজী গ্রুপের ইনিংস থামে ৫ উইকেটে ৩৩৬ রানে। মোহামেডানের হয়ে তাসকিন আহমেদ ৩ উইকেট পেলেও, তার ১০ ওভারে ১০৭ রান দেন, যা দলের জন্য ছিল বড় ধাক্কা।
তামিম-রনির ভালো শুরু, ধসে গেল মোহামেডান
৩৩৭ রানের বড় লক্ষ্য তাড়ায় ভালো শুরু করে মোহামেডান। উদ্বোধনী জুটিতে ৭২ রান তোলেন তামিম ইকবাল ও রনি তালুকদার। বিধ্বংসী ইনিংস খেলেন তামিম, মাত্র ৩৪ বলে ৪৮ রান (৫ চার, ৩ ছক্কা) করেন তিনি। তবে তিনি আউট হওয়ার পর ধীরে ধীরে ম্যাচের লাগাম গাজী গ্রুপের হাতে চলে যায়।
রনি ৯০ বলে ৭৪ রান করলেও, সঙ্গীর অভাবে তিনি লম্বা ইনিংস খেলতে পারেননি। তাওহীদ হৃদয় (৩৬) কিছুটা প্রতিরোধ গড়লেও মোহামেডান নিয়মিত উইকেট হারাতে থাকে।
শেষ দিকে ওয়ানডে ক্রিকেটকে বিদায় বলা মুশফিকুর রহিমের ৪৯ রানের ইনিংস কেবল পরাজয়ের ব্যবধান কমিয়েছে। মোহামেডানের ইনিংস ২৭১ রানে গুটিয়ে যায়।
গাফফারের ৪ উইকেট, গাজীর দারুণ জয়
গাজী গ্রুপের হয়ে ৪ উইকেট নিয়ে বোলিংয়ে জয়ের মূল নায়ক আব্দুল গাফফার সাকলাইন। তার বিধ্বংসী বোলিংয়েই মোহামেডান ব্যাটিং ধসে পড়ে।
অবশেষে ৬৫ রানের বড় জয় তুলে নেয় গাজী গ্রুপ ক্রিকেটার্স, আর অধিনায়ক বিজয় প্রমাণ করেন কেন তিনি দলের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ব্যাটার!