Thursday, April 3, 2025
spot_img
হোমক্রিকেটরাওয়ালপিন্ডিতে সান্ত্বনার জয় খুঁজবে পাকিস্তান-বাংলাদেশ!

রাওয়ালপিন্ডিতে সান্ত্বনার জয় খুঁজবে পাকিস্তান-বাংলাদেশ!

চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফির এবারের আসর একেবারেই ভুলে যেতে চাইবে পাকিস্তান ও বাংলাদেশ। দুই দলের জন্যই এটি হতাশার এক টুর্নামেন্ট হয়ে দাঁড়িয়েছে। নিজেদের শেষ ম্যাচে রাওয়ালপিন্ডিতে মুখোমুখি হতে যাচ্ছে তারা, যেখানে জয়-পরাজয় আসলে খুব বেশি গুরুত্ব বহন করছে না। দুই দলের মূল লক্ষ্য হবে সম্মান রক্ষা করা এবং অন্তত একটি জয় নিয়ে বিদায় নেওয়া। তবে ম্যাচের ফলের চেয়েও গুরুত্বপূর্ণ হলো বৃষ্টি! আবহাওয়ার পূর্বাভাস বলছে, বৃষ্টি খেলায় বড় বাধা হয়ে দাঁড়াতে পারে, যা দুই দলের হতাশা আরও বাড়াবে।

পাকিস্তানের বিপর্যস্ত ব্যাটিং লাইনআপ

নিউজিল্যান্ড ও ভারতের বিপক্ষে পাকিস্তানের পারফরম্যান্স এক কথায় শোচনীয়। টপ অর্ডারের ব্যাটসম্যানরা ধারাবাহিক ব্যর্থ হয়েছেন। ইনজুরির কারণে ফখর জামানের অনুপস্থিতিতে ইমাম-উল-হক সুযোগ পেলেও তেমন কিছু করতে পারেননি। বাবর আজম ও সাউদ শাকিল দুজনেই একটি করে অর্ধশতক পেয়েছেন, তবে সেটিকে বড় ইনিংসে রূপ দিতে পারেননি। মোহাম্মদ রিজওয়ানও ফর্মে নেই, যদিও চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফির আগে ঘরের মাঠে একটি সেঞ্চুরি করেছিলেন।

মিডল অর্ডারে খুশদিল শাহ, সালমান আগা ও তৈয়ব তাহির প্রায় একই ধরনের ব্যাটিং স্টাইলের কারণে দলকে গতি দিতে পারছেন না। অলরাউন্ডার ফাহিম আশরাফ স্কোয়াডে থাকলেও তাকে একাদশে নেওয়া হয়নি, যা দলে ভারসাম্যহীনতা তৈরি করেছে। বোলিংয়েও পাকিস্তানের অবস্থা নাজুক। ভারতের বিপক্ষে শাহীন আফ্রিদি ও হারিস রউফকে তুলোধোনা করা হয়েছে। নাসিম শাহ কিছুটা ভালো করলেও নিজের সেরা ছন্দে নেই। লেগ স্পিনার আবরার আহমেদ একটি দুর্দান্ত ডেলিভারি করলেও তার উদযাপনই আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে ছিল!

বাংলাদেশের পরিচিত ব্যাটিং ব্যর্থতা

বাংলাদেশের পারফরম্যান্সও খুব একটা ভালো নয়। একমাত্র পেস বোলিং বিভাগ কিছুটা লড়াই করেছে, তবে ব্যাটিং ছিল একদমই ধারহীন। ভারতের বিপক্ষে ব্যাটিং লাইনআপ ভেঙে পড়ে, আর নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে ব্রেসওয়েলের অফস্পিনের সামনে মিডল অর্ডার ধসে পড়ে।

নাজমুল হোসেন শান্ত নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে কিছুটা ফর্মে ছিলেন, তবে পাকিস্তানের বিপক্ষে সেটি ধরে রাখা কঠিন হবে। জাকের আলি ধারাবাহিক খেলছেন, কিন্তু আরও দায়িত্ব নিতে হবে। তৌহিদ হৃদয় ভারতের বিপক্ষে দুর্দান্ত সেঞ্চুরি করেছিলেন, তাকেও এবার বড় ইনিংস খেলতে হবে।

বিশেষ নজর থাকবে অভিজ্ঞ মুশফিকুর রহিম ও মাহমুদউল্লাহ রিয়াদের দিকে। অনেকের ধারণা, এটি তাদের শেষ আইসিসি টুর্নামেন্ট, তাই তারা শেষ ম্যাচটি স্মরণীয় করতে চাইবেন। যদিও মাহমুদউল্লাহ এখন পর্যন্ত একটি মাত্র ম্যাচ খেলেছেন এবং সেখানে ব্যর্থ হয়েছেন।

পেস আক্রমণে আবারও দায়িত্ব থাকবে তাসকিন আহমেদ ও নাহিদ রানার ওপর। মুস্তাফিজুর রহমান ধারাবাহিক ভালো বোলিং করলেও অতটা বিধ্বংসী হতে পারেননি। স্পিন বিভাগে মেহেদি হাসান মিরাজ ও রিশাদ হোসেনের বড় ভূমিকা থাকবে, কারণ রাওয়ালপিন্ডির উইকেট তাদের সহায়তা করতে পারে।

ভবিষ্যতের পরিকল্পনায় চোখ দুই দলের

এই ম্যাচের পর বাংলাদেশ ও পাকিস্তানকে সামনে তাকাতে হবে। তাদের ঘরোয়া ক্রিকেটের কাঠামো উন্নত করতে হবে এবং আন্তর্জাতিক পর্যায়ে ভালো করতে হলে কোথায় পরিবর্তন দরকার, সেটিও নির্ধারণ করতে হবে। আগামী আইসিসি টুর্নামেন্টের আগে দুই দলকেই নিজেদের শক্তিশালী দল গঠন করতে হবে, বিশেষ করে যখন তারা একধরনের রূপান্তরের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে।

শেষ ম্যাচে পাকিস্তান কি ঘুরে দাঁড়াতে পারবে, নাকি বাংলাদেশ তাদের কষ্টার্জিত জয় তুলে নেবে? উত্তর মিলবে রাওয়ালপিন্ডির মাঠে!

RELATED ARTICLES

মন্তব্য করুন

আপনার মন্তব্য লিখুন দয়া করে!
এখানে আপনার নাম লিখুন

Most Popular

Recent Comments