শান্ত স্বভাবের কোচ হিসেবে পরিচিত কার্লো আনচেলত্তি। ফুটবলবিশ্বে তিনি বরাবরই ধীরস্থির এবং ঠাণ্ডা মেজাজের একজন কৌশলী হিসেবে প্রশংসিত। কিন্তু কখনো কখনো তিনিও রুদ্রমূর্তি ধারণ করেন, বিশেষ করে যখন দল প্রত্যাশা অনুযায়ী পারফর্ম করতে পারে না। রিয়াল মাদ্রিদের গোলরক্ষক থিবো কোর্তোয়া জানালেন, চলতি মৌসুমে বেশ কয়েকবার মেজাজ হারিয়েছেন আনচেলত্তি!
রিয়ালর কঠিন সময়, আনচেলত্তির রাগ!
এই মৌসুমে লড়াই করতে হচ্ছে রিয়াল মাদ্রিদকে। লা লিগায় শেষ তিন ম্যাচে জয়শূন্য তারা, ফলে বার্সেলোনার কাছে শীর্ষস্থান হারিয়েছে গতবারের চ্যাম্পিয়নরা। মৌসুমে দুইবার বার্সেলোনার বিপক্ষে বড় ব্যবধানে হেরেছে রিয়াল—লা লিগায় ৪-০, আর স্প্যানিশ সুপার কাপের ফাইনালে ৫-২ গোলে।
চ্যাম্পিয়ন্স লিগেও নতুন ফরম্যাটে বেশ ভুগছে রিয়াল। প্রথম পর্বে লিল, এসি মিলান ও লিভারপুলের কাছে হেরেছে তারা। সরাসরি শেষ ষোলোয় জায়গা করে নিতে পারেনি, ফলে প্লে-অফ খেলতে হচ্ছে তাদের। তবে সেখানে প্রথম লেগে ম্যানচেস্টার সিটির মাঠে ৩-২ গোলে জিতেছে রেয়াল। বুধবার সান্তিয়াগো বের্নাবেউয়ে ফিরতি লেগ, যেখানে জয়ের বিকল্প নেই আনচেলত্তির দলের জন্য।
কোর্তোয়া বললেন, কখন রেগে যান আনচেলত্তি?
ম্যানচেস্টার ইউনাইটেড গ্রেট রিও ফার্ডিনান্ডের সঞ্চালনায় এক পডকাস্টে কোর্তোয়া জানালেন, কোন কোচ কেমন, আর আনচেলত্তির মেজাজ হারানোর কারণ কী?
কোর্তোয়া বলেন, “ক্যারিয়ারে আমি (আন্তোনিও) কন্তের মতো কোচ পেয়েছি, যিনি পাগলের মতো চিৎকার করতেন। এটা একেকজনের ব্যক্তিত্বের ব্যাপার। (জিনেদিন) জিদান অনেক বেশি শান্ত ছিলেন… কার্লোও শান্ত, তবে বিশেষ কিছু ঘটলে তিনিও রেগে যান, যেমনটা এই মৌসুমে কয়েকবার ঘটেছে।”
তিনি আরও যোগ করেন, “আমি বিষয়টি পছন্দ করি, কারণ শান্ত স্বভাবের মাঝে কোনো বিশেষ মুহূর্তে রেগে যাওয়ার ভারসাম্যটা গুরুত্বপূর্ণ। এতে কথার প্রভাব আরও বেশি পড়ে।”
আনচেলত্তির সামনে কঠিন চ্যালেঞ্জ!
এখন দেখার বিষয়, চ্যাম্পিয়ন্স লিগে নিজেদের হারানো গৌরব ফিরে পেতে পারেন কি না আনচেলত্তি। রিয়াল মাদ্রিদ লা লিগার শীর্ষস্থান পুনরুদ্ধার করতে পারবে? নাকি এই মৌসুম রাগ আর হতাশার মধ্য দিয়েই শেষ হবে আনচেলত্তির জন্য?