সানদিহা ইসলাম আশা ৬ নম্বরে বোলিংয়ে এসে প্রতিপক্ষের ব্যাটিংয়ে হানা দেন। প্রথম ৪ ওভারে নেন পাঁচ উইকেট! এক ওভার পর ফেরান আরেক ব্যাটারকে। তার দুর্দান্ত স্পিনে খেলাঘর সমাজকল্যাণ সমিতিকে অল্প রানে গুটিয়ে সহজ জয়ে লিগ শুরু করল গুলশান ইয়ুথ ক্লাব।
ঢাকা প্রিমিয়ার উইমেন’স ক্রিকেট লিগের উদ্বোধনী দিনে সানদিহা ছাড়াও চমৎকার বোলিং করেন সানজিদা আক্তার, সুরাইয়া আজমিনরা। ব্যাট হাতে রানের দেখা পান সুমাইয়া আক্তার, শারমিন আক্তার ও ইশমা তানজিম। ইউল্যাব ক্রিকেট মাঠে ৫.৪ ওভারে ৩ মেডেনসহ মাত্র ৯ রান খরচ করে ৬ উইকেট নেন সানদিহা। একপর্যায়ে ২ রানে ৫ উইকেট ছিল তার।
অফ স্পিনে কাবু হয়ে ৬৪ রানে অলআউট হয়ে যায় খেলাঘর। দুই অঙ্ক ছুঁতে পারেন শুধু আতিকা হোসেন আনুরা (৭১ বলে ২১)। গুলশান ইয়ুথের পেসার সুরাইয়া ৫ ওভারে ২ মেডেনসহ ৪ রানে নেন ৩ উইকেট। ছোট লক্ষ্যে ৭ উইকেটে জেতে তারা।
মিরপুর শের-ই বাংলা জাতীয় ক্রিকেট স্টেডিয়ামে প্রথম বিভাগ থেকে উঠে আসা শেলটেক ক্রিকেট একাডেমির (সাবেক মিরপুর বয়েজ ক্রিকেট ক্লাব) সঙ্গে লড়াই জমাতে পারেনি বর্তমান চ্যাম্পিয়ন মোহামেডান স্পোর্টিং ক্লাব। সুমাইয়া ও ইশমার ফিফটিতে ৯ উইকেটে ২৪৯ রানের পুঁজি পায় শেলটেক। পরে শারমিনের লড়াই ছাপিয়ে ৫৩ রানে জেতে তারা। ১১ বল বাকি থাকতে ১৯৬ রানে গুটিয়ে যায় মোহামেডান।
ওপেনিংয়ে নেমে ৮০ বলে ৬৮ রান করেন ইশমা। ৬ চারের সঙ্গে মারেন ১টি ছক্কা। তিন নম্বরে নামা সুমাইয়ার ব্যাট থেকে আসে ৮৩ রান। ৭ চার ও ২ ছক্কায় ১০১ বলের ইনিংস সাজান ১৯ বছর বয়সী ব্যাটার। ৪২তম ওভারে ব্যাটিংয়ে নামার সুযোগ পেয়ে প্রথম বলে মিড অনে ক্যাচ দেন শেলটেক অধিনায়ক নিগার সুলতানা।
শেষ দিকে শেলটেকের রানের বানে বাধ দিয়ে ৩৫ রানে ৪ উইকেট নেন বাঁহাতি স্পিনার সানজিদা। এছাড়া বাঁহাতি পেসে ফারিহা নেন ৩ উইকেট। পরে মোহামেডানের পক্ষে লড়াই করেন শুধু শারমিন। দীর্ঘ দিন পর জাতীয় দলে ফিরে দারুণ পারফর্ম করা ব্যাটার এবার লিগের প্রথম ম্যাচে খেলেন ৭৩ রানের ইনিংস। শেষ ব্যাটার হিসেবে ফেরার আগে ৩ চার ও ২ ছক্কা মারেন তিনি।
শেলটেকের বোলারদের মধ্যে ৩৩ রানে ৩ উইকেট নেন ফাহিমা খাতুন। সঙ্গে ব্যাট হাতে ২৮ বলে ২৮ রানের সৌজন্যে তার হাতেই ওঠে ম্যাচ সেরার পুরস্কার।
বিকেএসপির এক নম্বর মাঠে বাংলাদেশ পুলিশ ক্রিকেট ক্লাবকে ৪ উইকেটে হারিয়ে লিগে যাত্রা শুরু করে আবাহনী লিমিটেরিয়া আক্তার শিখা, রুপা রায়দের দারুণ বোলিংয়ে ৯৮ রানে অলআউট হয় বাংলাদেশ পুলিশ। পরে ফারজানা হকের ফিফটিতে ১৪৭ বল বাকি থাকতে জয় নিয়ে মাঠ ছাড়ে আবাহনী। বাংলাদেশ পুলিশের পক্ষে সর্বোচ্চ ২৮ রান করেন রচনা তৃপ্তি। ৭ ওভারে মাত্র ১৩ রানে ৩ উইকেট নেন রিয়া। অপরাজিত ফিফটিতে ৭২ বলে ৫৫ রান করেন আবাহনী অধিনায়ক ফারজানা।