হ্যারি ব্রুক যখন ব্যাটিং করছিলেন, তখন মনে হচ্ছিল ইংল্যান্ড সহজেই জিতবে। তারা ৪ উইকেটে ১২৯ রান করেছিল। তবে রবি বিষ্ণুই ও কনকাশন বদলি হার্শিত রানার বোলিংয়ে ইংল্যান্ডের ব্যাটিং লাইনআপ ভেঙে পড়ে। এর ফলে ভারত ১৫ রানে জয় পেয়ে এক ম্যাচ হাতে রেখেই সিরিজ নিশ্চিত করে ফেলেছে।
শুক্রবার পুনের মহারাষ্ট্র ক্রিকেট স্টেডিয়ামে চতুর্থ টি-টোয়েন্টি ম্যাচে ইংল্যান্ডকে হারায় ভারত। প্রথমে ব্যাটিং করে ভারত ২০ ওভারে ৯ উইকেটে ১৮১ রান সংগ্রহ করে। ইংল্যান্ড ১৬৬ রানেই অলআউট হয়ে যায়। এখন পাঁচ ম্যাচের সিরিজে ভারত ৩-১ ব্যবধানে এগিয়ে।
শুধু নিজেদের ব্যাটিংয়ের সময়ই নয়, বল হাতেও শুরুটা দুর্দান্ত করেছিল সফরকারিরা। টস জিতে ভারতকে ১২ রানে ৩ উইকেট এবং এরপর ৭৯ রানে ৫ উইকেটে পরিণত করার পরও সিরিজ নির্ধারণী ম্যাচে জয় তুলে নিতে ব্যর্থ হলো দলটি। এরপর চারদিকে জমে থাকা শিশিরের সুবিধা নিয়েও সুবিধাজনক অবস্থায় থাকা সত্ত্বেও ব্যাটিং ধসে হারে তারা।
আর লক্ষ্য তাড়ায় কী দারুণ শুরু করেছিল ইংলিশরা। পাওয়ারপ্লের ভেতর কোনো উইকেট না হারিয়ে ৬২ রান তোলে দলটি। পরে একসঙ্গে একাধিক উইকেট হারিয়ে ম্যাচ হাতছাড়া করে ফেলে। ১৫তম ওভারে ১২৯ রানেও তাদের অবস্থান শক্ত ছিল। তবে বরুণ চক্রবর্তীর সেই ওভারে দুইটি গুরুত্বপূর্ণ উইকেট হারিয়ে মোমেন্টাম হারিয়ে ফেলে তারা।
ব্যাটিংয়ে নেমে সাকিব মাহমুদের তোপে ১২ রানেই ভারতের তিন ব্যাটার সাজঘরে। এরপর অভিষেক শর্মার সঙ্গে রিঙ্কু সিংয়ের প্রতিরোধ। ৪৫ রানের জুটি গড়েন তারা। এরপর অবশ্য দ্রুতই এ দুই ব্যাটারকে ফেরায় তারা। তবে ভারতীয়দের আগ্রাসন থামানো যায়নি।
শুভাম দুবে ও হার্দিক পান্ডিয়ার ঝড়ো ব্যাটিংয়ে বড় স্কোরই দাঁড় করায় দলটি। ষষ্ঠ উইকেটে ৮৭ রানের জুটি গড়েন তারা। দুবে ও পান্ডিয়া দুইজনই খেলেন ৫৩ রানের ইনিংস। ৩৪ বলে ৭টি চার ও ২টী ছক্কায় ইনিংস সাজান দুবে। আর ৩০ বলে সমান ৪টি করে চার ও ছক্কা মারেন পান্ডিয়া। ইংলিশদের হয়ে ৩টি উইকেট নেন সাকিব। ২টি শিকার জেমি ওভারটনের।
লক্ষ্য তাড়ায় নেমে ৬২ রানের ওপেনিং জুটির পর হঠাৎ ব্যাটিং ধস নামে ইংলিশদের। ৩৩ রানের ব্যবধানে ৪ উইকেট হারায় তারা। এরপর ব্রুকের ব্যাটে এগিয়ে যাচ্ছিল দলটি। কিন্তু শেষ ৩৭ রান তুলতে ৬টি উইকেট হারিয়ে হার মানতে বাধ্য হয় দলটি। ২৬ বলে ৫টি চার ও ২টি ছক্কায় ৫১ রানের ইনিংস খেলেন ব্রুক। ১৯ বলে ৩৯ রান করেন বেন ডাকেট। ভারতের হয়ে ৩টি করে উইকেট নেন হার্সিত ও বিষ্ণুই।