লিভারপুলের মাঠে শুরু থেকেই দাপুটে ফুটবল উপহার দিলো আর্না স্লটের দল। ম্যাচের শুরুতেই জালে বল পাঠালেও অফসাইডের কারণে তা বাতিল হয়। এরপর তিনটি শট পোস্ট ও ক্রসবারে প্রতিহত হলেও থেমে থাকেনি লিভারপুল।
অ্যানফিল্ডে বৃহস্পতিবার রাতে টটেনহ্যাম হটস্পারকে ৪-০ গোলে বিধ্বস্ত করে লিভারপুল। দুই লেগ মিলিয়ে ৪-১ ব্যবধানে এগিয়ে লিগ কাপ ফাইনালের টিকিট নিশ্চিত করে রেকর্ড ১০ বারের চ্যাম্পিয়নরা।
ঘরের মাঠে লিভারপুলের হয়ে গোলের সূচনা করেন কোডি গ্যাকপো। এরপর মোহামেদ সালাহ ও দমিনিক সোবোসলাই ব্যবধান বাড়ান। ম্যাচের শেষ দিকে ভার্জিল ফন ডাইক গোল করলে পূর্ণ হয় লিভারপুলের গোল উৎসব।
টটেনহ্যামের বিপক্ষে ম্যাচে লিভারপুলের আক্রমণাত্মক ফুটবল আবারও প্রমাণ করল কেন তারা ইংলিশ ফুটবলে অন্যতম সেরা দল।
প্রথম লেগে ১-০ গোলে জয়ী টটেনহ্যাম ফিরতি দেখায় প্রায় পুরোটা সময়ই ঘর সামলাতে ব্যস্ত সময় পার করে। গোলের জন্য তারা মাত্র পাঁচটি শট নিতে পারে, যার একটিও ছিল না লক্ষ্যে। সেখানে লিভারপুলের ২৬ শটের ১০টি লক্ষ্যে ছিল।
প্রত্যাশিতভাবেই ম্যাচের শুরু থেকে লিভারপুল বেশিরভাগ সময় পজেশন রেখে আক্রমণের চেষ্টা করতে থাকে। প্রতিপক্ষের ওপর একচেটিয়া চাপ ধরে রেখে, প্রথম আধা ঘণ্টায় গোলের জন্য সাতটি শট নিয়ে দুটি লক্ষ্যে রাখতে পারে; যদিও টটেনহ্যাম গোলরক্ষককে একবারও কঠিন পরীক্ষায় ফেলতে পারেনি তারা।
প্রতিপক্ষকে কোণঠাসা করে রাখার সুফল লিভারপুল পেয়ে যায় ৩৪তম মিনিটে। বক্সে ডান দিক থেকে সালাহর দূরের পোস্টে বাড়ানো বল ফাঁকায় পেয়ে প্রথম ছোঁয়ার শটে দলকে এগিয়ে নেন ডাচ ফরোয়ার্ড হাকপো। দুই লেগ মিলিয়ে স্কোরলাইন দাঁড়ায় ১-১।
৪৪তম মিনিটে ব্যবধান দ্বিগুণ হতে পারত। তবে বক্সে বাঁ দিক থেকে সালাহর ভলি গোলরক্ষকের আঙুল ছুঁয়ে ক্রসবারে বাধা পেলে বেঁচে যায় টটেনহ্যাম।
বিরতির পরও একইরকম আক্রমণাত্মক শুরু করে লিভারপুল। ৪৯তম মিনিটে সবাইকে পেছনে ফেলে নুনেস ডি-বক্সে ঢুকে পড়লে তাকে ফাউল করে আটকান গোলরক্ষক। সুবর্ণ সুযোগ কাজে লাগাতে ভুল করেননি সালাহ; দারুণ স্পট কিকে দলকে ফাইনালের পথে এগিয়ে নেন মিশরের স্ট্রাইকার।
৬৩তম মিনিটে দারুণ সুযোগ আসে লিভারপুলের সামনে; দুর্ভাগ্য বাধা হয়ে দাঁড়ায়। হাকপোর জোরাল শট দূরের পোস্টে প্রতিহত হয়। ১০ মিনিট পর তাদের ডাচ মিডফিল্ডার রায়ানের শটও পোস্টে লাগে।
অনেক সুযোগ হারানোর পর ৭৫তম মিনিটে অবশেষে তৃতীয় গোলের দেখা পায় লিভালপুল। কনর ব্র্যাডলির পাস প্রথম ছোঁয়ায় ধরে দ্বিতীয় ছোঁয়ায় প্লেসিং শটে জালে পাঠান সোবোসলাই।
তিন মিনিট পর টটেনহ্যামের সন হিউং-মিনের একটি শটও ক্রসবারে লাগে। এরপরই পাল্টা আক্রমণে উঠে সব অনিশ্চয়তার ইতি টেনে দেয় লিভারপুল। কর্নারে দারুণ হেডে স্কোরলাইন ৪-০ করেন ডাচ ডিফেন্ডার ফন ডাইক।
আগামী ১৬ মার্চ লন্ডনের ওয়েম্বলি স্টেডিয়ামের ফাইনালে লিভারপুলের প্রতিপক্ষ নিউক্যাসল ইউনাইটেড। আর্সেনালকে দুই লেগেই হারিয়ে ফাইনালে উঠেছে ২০২২-২৩ আসরসহ দুইবারের রানার্সআপ দলটি।