Thursday, April 3, 2025
spot_img
হোমক্রিকেটঅস্ট্রেলিয়ার ক্রিকেট 'হল অব ফেমে' ক্লার্ক

অস্ট্রেলিয়ার ক্রিকেট ‘হল অব ফেমে’ ক্লার্ক

নান্দনিক ব্যাটিং, গুরুত্বপূর্ণ সেঞ্চুরি, সাহসী নেতৃত্ব ও অসংখ্য স্মরণীয় পারফরম্যান্সে মাইকেল ক্লার্ক আগেই জায়গা করে নিয়েছিলেন গ্রেটদের কাতারে। এবার পেলেন আনুষ্ঠানিক স্বীকৃতি। অস্ট্রেলিয়ান ক্রিকেটের ‘হল অব ফেম’-এ যুক্ত হয়েছেন এই কিংবদন্তি।

প্রায় দেড়শ বছরের ইতিহাসে ‘হল অব ফেম’-এ জায়গা পাওয়া ক্লার্ক হলেন ৬৪তম ক্রিকেটার। চলতি মৌসুমে তার সঙ্গে আরও দুজনের নাম ঘোষণা করা হবে।

মাত্র ১৭ বছর বয়সে প্রথম শ্রেণির ক্রিকেটে অভিষেক করা ক্লার্ক ২০০৩ সালে আন্তর্জাতিক ওয়ানডে দিয়ে শুরু করেন পথচলা। অভিষেকের প্রথম তিন ওয়ানডেতে অপরাজিত ইনিংসে (৩৯*, ৭৫*, ৫৫*) সম্ভাবনার ঝলক দেখান।

অভিষেকেই চমক, এরপর কিংবদন্তি হয়ে ওঠা

২০০৪ সালে ভারতের বিপক্ষে টেস্ট অভিষেকে বেঙ্গালুরুতে ১৫১ রানের দুর্দান্ত ইনিংস খেলেন ক্লার্ক। ওই সিরিজে নাগপুরে তার ৯১ ও ৭৩ রানের দুটি ইনিংস অস্ট্রেলিয়াকে ঐতিহাসিক সিরিজ জয়ে সাহায্য করে।

ফর্ম হারিয়ে একবার টেস্ট দল থেকে বাদ পড়লেও দ্রুত ফিরেছিলেন। এরপর ব্যাট-বল ও নেতৃত্বে নিজেকে নিয়ে গেছেন শীর্ষ পর্যায়ে।

১১৫ টেস্টে ৪৯.১০ গড়ে ৮,৬৪৩ রান করেছেন ক্লার্ক, সেঞ্চুরি ২৮টি। টেস্ট ইতিহাসে অস্ট্রেলিয়ার মাত্র পাঁচজন তার চেয়ে বেশি রান ও সেঞ্চুরি করেছেন।

বিশ্বরেকর্ড আর স্মরণীয় ইনিংসের মালিক

২০১২ সালে ভারতের বিপক্ষে সিডনিতে ৩২৯ রানের ইনিংস ছিল তার ক্যারিয়ারের সেরা। একই বছরে চারটি দ্বিশতকের একমাত্র রেকর্ডটিও তার। এছাড়া কেপ টাউনে ১৫১ ও ১৬১ রানের ইনিংস কিংবা ফিল হিউজের মৃত্যুর পর আবেগময় সেঞ্চুরি, তার ব্যাট থেকে এসেছে একের পর এক স্মরণীয় মুহূর্ত।

নেতৃত্বের অনন্য দক্ষতা

২০১১ সালে রিকি পন্টিংয়ের পর অস্ট্রেলিয়ার নেতৃত্ব গ্রহণ করেন ক্লার্ক। তার অধীনেই দল টেস্ট র‌্যাঙ্কিংয়ের শীর্ষে উঠে। ২০১৩-১৪ অ্যাশেজে ইংল্যান্ডকে হোয়াইটওয়াশ করার কৃতিত্বও তার নেতৃত্বের। ২০১৫ সালে তার অধীনেই ওয়ানডে বিশ্বকাপ জেতে অস্ট্রেলিয়া।

বোলিং ও ফিল্ডিংয়েও অসাধারণ

ডানহাতি ব্যাটসম্যান হলেও বাঁহাতি স্পিনে ৯৪টি আন্তর্জাতিক উইকেট নিয়েছেন ক্লার্ক। ২০০৪ সালে মুম্বাইয়ে ৯ রানে ৬ উইকেট কিংবা ২০০৮ সালে সিডনিতে দুই ওভারে তিন উইকেট নিয়ে অস্ট্রেলিয়াকে নাটকীয় জয় উপহার দেন।

বিদায় এবং সম্মানের স্মারক

২০১৫ অ্যাশেজের পর আন্তর্জাতিক ক্রিকেটকে বিদায় জানান ক্লার্ক। ৪৩ বছর বয়সে ‘হল অব ফেম’-এ নিজের নাম দেখতে পেয়ে রোমাঞ্চিত এই কিংবদন্তি।

“ছোটবেলা থেকে যাদের অনুপ্রেরণা হিসেবে দেখেছি, সেই কিংবদন্তিদের সঙ্গে জায়গা পাওয়া সত্যিই সম্মানের। ক্রিকেট এখনো আমার জীবনের বড় অংশ, এবং তা চিরকাল থাকবে।”

RELATED ARTICLES

মন্তব্য করুন

আপনার মন্তব্য লিখুন দয়া করে!
এখানে আপনার নাম লিখুন

Most Popular

Recent Comments