গ্যালারি ভরিয়ে অপেক্ষায় ছিলেন প্রায় ২০ হাজার দর্শক। চোখে-মুখে ছিল একটাই প্রত্যাশা—কবে মাঠে নামবেন তাদের প্রিয় তারকা নেইমার। দ্বিতীয়ার্ধের শুরুতেই সেই প্রতীক্ষার অবসান হলো। ঘোষকের কণ্ঠে তার নাম ঘোষণার সঙ্গে সঙ্গে যেন আগ্নেয়গিরির মতো ফেটে পড়ে স্টেডিয়াম। ১০ নম্বর জার্সি গায়ে মাঠে নেমে দর্শকদের প্রতি দুহাত তুলে শুভেচ্ছা জানান নেইমার। অধিনায়ক আর্মব্যান্ড পরিয়ে দেওয়া হয় তাকে।
সাও পাউলোর এই ফুটবলপাগল যুবকই একসময় সান্তোসের হয়ে শুরু করেছিলেন তার পথচলা, যা তাকে পরিণত করেছে বিশ্ব ফুটবলের মহাতারকায়। প্রায় এক যুগ পর সেই ক্লাবেই ফিরলেন তিনি। আর সেই স্মরণীয় মুহূর্তটি হলো তার ৩৩তম জন্মদিনে।
ম্যাচে নেই ধার, তবুও সেরার স্বীকৃতি
ব্রাজিলিয়ান পাউলিস্তা চ্যাম্পিয়নশিপে বতাফোগোর বিপক্ষে ১-১ গোলে ড্র করেছে সান্তোস। তবে প্রত্যাবর্তনের ম্যাচটি রাঙাতে পারেননি নেইমার। কয়েকটি ঝলক দেখালেও চোট কাটিয়ে ছন্দে ফেরার পথে এখনও আছেন তিনি। তবুও তাকে ম্যাচের সেরা খেলোয়াড় ঘোষণা করা হয়।
দীর্ঘ সময় পর মাঠে নেইমারের উপস্থিতিই ছিল ম্যাচের প্রধান আকর্ষণ। প্রথমার্ধে সান্তোসের খেলা দেখে ধৈর্য ধরে অপেক্ষা করতে হয় ভক্তদের। দ্বিতীয়ার্ধের শুরুতে বদলি হিসেবে মাঠে নামানো হয় এই তারকাকে।
একসময় সান্তোসে তিনি পরতেন ১৮, ৭ এবং ১১ নম্বর জার্সি। তবে এবার তাকে দেওয়া হয়েছে কিংবদন্তি পেলের প্রতীকী ১০ নম্বর জার্সি। মাঠে নেমেই দুহাত তুলে স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞতা জানান নেইমার।
অদূর ভবিষ্যতে নিজ শহরে আরও স্মরণীয় মুহূর্তের আশায় বুক বেঁধেছেন সান্তোস সমর্থকেরা।
গোলের সম্ভাবনা জাগালেন, তবে ফিরতে আরও সময় লাগবে নেইমারের
দীর্ঘদিন চোটের কারণে মাঠের বাইরে থাকার প্রভাব স্পষ্ট ছিল নেইমারের খেলায়। সান্তোসে ফিরে প্রথম ম্যাচেই পারফরম্যান্সে ছিল জড়তা। তবুও দু-একবার তার সেই পুরোনো জাদুর আভাস পাওয়া গেছে।
একবার দুই ডিফেন্ডারকে এড়িয়ে নেওয়া দুর্দান্ত শটে গোলের সম্ভাবনা তৈরি করলেও বিপক্ষ গোলরক্ষকের দক্ষতায় আটকে যায় সেই প্রচেষ্টা। আরও দুইবার নেইমারের পাস থেকে গোলের সুযোগ তৈরি হলেও সেগুলোও কাজে লাগাতে ব্যর্থ হন সান্তোসের খেলোয়াড়রা।
প্রতিপক্ষের গোল শোধে ম্যাচ ড্র
প্রথমার্ধে পেনাল্টি থেকে এগিয়ে যায় সান্তোস। তবে ৬৭তম মিনিটে গোল শোধ করে দেয় বতাফোগো। শেষ বাঁশির পর নেইমারের সঙ্গে কথা বলা এবং ছবি তোলার প্রতিযোগিতায় মেতে ওঠেন প্রতিপক্ষের খেলোয়াড়রা।
হৃদয়ে বিশেষ জায়গা পেল প্রত্যাবর্তনের ম্যাচ
ম্যাচ শেষে নেইমার তার অনুভূতি প্রকাশ করেন আবেগঘন কণ্ঠে।
“ভালোবাসার কোনো কিছু করতে পারার অনুভূতি ভাষায় বোঝাতে পারব না। সান্তোসকে প্রচণ্ড ভালোবাসি। আজ যখন মাঠে নেমেছি, সেই মুহূর্তটা কোনোভাবেই বোঝানো সম্ভব নয়।”
পারফরম্যান্সে ছন্দে ফেরার অপেক্ষায়
নেইমারের বিশ্বাস, আরও কয়েকটি ম্যাচ খেললে তার পারফরম্যান্স উন্নত হবে।
“ম্যাচটি খুব কঠিন ছিল। আগেই বাবাকে বলেছিলাম, কঠিন ম্যাচ হবে। ওদের রক্ষণভাগ শক্তিশালী। আমাকে ধৈর্য ধরতে হবে এবং আরও অনুশীলন করতে হবে।”
“মাঠে আরও সময় কাটানো দরকার। এখনও শতভাগ ছন্দে নেই। আমার মনে হয়, চার-পাঁচটি ম্যাচ খেললে আরও ভালো লাগবে।”