টানা অনিশ্চয়তার মধ্যে একটি সুখবর পেলেন সাকিব আল হাসান। বোলিং অ্যাকশনের পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়েছেন বাংলাদেশের অভিজ্ঞ এই অলরাউন্ডার। গত কয়েক মাসে শুধু ব্যাটসম্যান পরিচয়ে খেলা সাকিব আবার ফিরে পেলেন তার পুরনো অলরাউন্ডার সত্ত্বা।
বোলিং নিষেধাজ্ঞার শুরুটা কিভাবে?
গত বছরের সেপ্টেম্বরে সারের হয়ে কাউন্টি ক্রিকেট খেলতে গিয়ে সন্দেহের মুখে পড়ে সাকিবের বোলিং অ্যাকশন। সমারসেটের বিপক্ষে সেই ম্যাচে ৬৩.২ ওভার বল করে ৯টি উইকেট নেন তিনি। তবে ম্যাচ শেষে তার অ্যাকশন নিয়ে প্রশ্ন ওঠে, যা বিস্মিত করেছিল ক্রিকেট বিশ্বকে। কারণ, সাকিবের দীর্ঘ ক্যারিয়ারে এর আগে কখনো তার বোলিং অ্যাকশন প্রশ্নবিদ্ধ হয়নি।
পরবর্তীতে আইসিসি অনুমোদিত ল্যাবে পরীক্ষা দিয়েও তার অ্যাকশনে ত্রুটি ধরা পড়ে। গত ডিসেম্বরে বিসিবি জানায়, বাংলাদেশে ঘরোয়া ক্রিকেট ছাড়া অন্য কোথাও বোলিং করতে পারবেন না তিনি। এরপর আরেক দফা পরীক্ষাতেও ব্যর্থ হন সাকিব।
পরিশ্রমের পর অবশেষে মুক্তি!
একাধিক ব্যর্থতার পর আরও কিছুটা সময় নিয়ে নিজের বোলিং অ্যাকশনে কাজ করেন সাকিব। এই মাসেই ইংল্যান্ডে আবার পরীক্ষা দেন তিনি। শেষ পর্যন্ত এই পরীক্ষায় উতরে গেছেন, বোলিংয়ে ফিরতে আর কোনো বাধা নেই।
স্বীকৃত ক্রিকেটে ৮৬০ ম্যাচে ১,২৪৭ উইকেট শিকার করা এই বোলার আবারও হাত ঘুরাতে পারবেন আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে।
তবে ক্যারিয়ারের ভবিষ্যৎ এখনো অনিশ্চিত
সারের হয়ে বিতর্কিত সেই ম্যাচের পর ভারত সফরে দুটি টেস্ট খেলেছিলেন সাকিব। পরে আবু ধাবির টি-টেন লিগে বাংলা টাইগার্সের হয়ে খেলেন সাতটি ম্যাচ। এরপর শ্রীলঙ্কার একটি টি-টেন টুর্নামেন্ট চলাকালীন আসে তার বোলিং নিষেধাজ্ঞার খবর।
নিষেধাজ্ঞার পর থেকেই স্বীকৃত ক্রিকেটে আর দেখা যায়নি তাকে। চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফির বাংলাদেশ স্কোয়াডেও তাকে রাখা হয়নি, কারণ তখনো তার বোলিং নিষিদ্ধ ছিল।
এদিকে রাজনৈতিক পরিস্থিতির কারণে গত আগস্টে দেশে ফিরে বিদায়ী টেস্ট খেলার পরিকল্পনা করলেও সেটি সম্ভব হয়নি। এখন নিষেধাজ্ঞা উঠে গেলেও তার আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ার আদৌ স্বাভাবিকভাবে চলবে কি না, সেটি স্পষ্ট নয়।
আগামী সোমবার ৩৮ বছরে পা রাখবেন সাকিব। বয়স ও পরিস্থিতি বিবেচনায় এই অলরাউন্ডারের আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ারের ভবিষ্যৎ এখনো অনিশ্চিতই রয়ে গেছে।