দুবাইয়ে চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফির ‘এ’ গ্রুপের ম্যাচে টস জিতে আগে ব্যাটিং করা বাংলাদশ পেয়েছে ২২৮ রানের পুঁজি। জাকের ফিফটি করে আউট হয়ে গেলেও ক্যারিয়ার সেরা ইনিংসে তাওহীদ দেখা পেয়েছেন তিন অঙ্কের ম্যাজিক ফিগারের।
দুবাইয়ে ওয়ানডে বা টি-টোয়েন্টি, সব ফরম্যাটেই পরে ব্যাটিং করা দলের জয়ের পাল্লাই বেশি ভারি। তবে কিছুটা চমকের জন্ম দিয়েই টস জিতে আগে ব্যাটিং নেন নাজমুল হোসেন শান্ত। চোটের কারণে অভিজ্ঞ মাহমুদউল্লাহ না থাকায় দলে জায়গা হয় তরুণ ব্যাটার জাকের আলি অনিকের, যিনি সুযোগটা কাজে লাগিয়েছেন দুহাতে।
বাংলাদেশের ইনিংসকে দুই ভাগে ভাগ করাটাই শ্রেয়। কারণ, প্রথম দশ ওভারের ব্যাটিং দেখলে মনে হতেই পারে, এই উইকেটে ব্যাটিং করা বুঝি ভীষণ কঠিন কাজ। প্রথম ওভারে রানের খাতা খোলার আগেই উইকেটের পেছনে ক্যাচ দিয়ে ফেরেন সৌম্য। সেই ধাক্কা কাটিয়ে ওঠার আগে সাজঘরের পথ ধরেন অধিনায়ক শান্ত।
একপ্রান্তে তানজিদ হাসান তামিম চমৎকার কিছু শটে রানের চাকা সচল রাখার চেষ্টা করলেও বেশিদূর যেতে পারেননি। ২৫ বলে ৪ চারে করেন ২৫ রান। তবে মুশফিকুর রহিম ও মেহেদি হাসানের ব্যর্থতায় স্রেফ ৩৫ রানেই ৫ উইকেট হারিয়ে ফেলে বাংলাদেশ।
পরপর দুই বলে দুই উইকেট নেওয়া আকসার প্যাটেলের হ্যাটট্রিকও প্রায় হয়েই যাচ্ছিক। তবে জাকেরের দেওয়া সহজ ক্যাচ স্লিপে নিতে ব্যর্থ হন রোহিত। ১০ ওভার শেষে বাংলাদেশের স্কোর ছিল ৫ উইকেটে মাত্র ৩৯ রান। চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফির ইতিহাসে প্রথম দশ ওভারে সবচেয়ে বেশি উইকেট হারানোর তালিকায় এটি এখন যৌথভাবে দ্বিতীয় স্থানে। এই তালিকায় যৌথভাবে প্রথম অবস্থানও বাংলাদেশেরই।
এই জুটির শুরুর দিকে এরপর জীবন পান তাওহীদও। কুলদীপের বলে মিড অফে ক্যাচ ফেলে দেন হার্দিক পান্ডিয়া। কয়েক ওভার বাদে তার বলেই স্ট্যাম্পিং হতে হতে গিয়েও বেঁচে যান জাকের।
এরপরই শুরু হয় তাদের লড়াই। আত্মবিশ্বাসে বলিয়ান হয়ে খুব অল্প সময়ের মধ্যেই বোলারদের ওপর চড়াও হন দুই ব্যাটার। তাদের হাত ধরে একে একে আসে দলীয় ৫০ থেকে শুরু করে ১৫০ রানও। দুজনই তুলে নেন ফিফটি।
যেভাবে ব্যাট করছিলেন, তাতে দুজনের সেঞ্চুরিই মনে হচ্ছিল অনিবার্য। তবে সেটা আর হয়নি। ৪৩তম ওভারে মোহাম্মদ শামির বলে লং-অনে ক্যাচ দিয়ে শেষ হয় জাকেরের ৬৮ রানের ইনিংস।
তবে এর আগেই তার ও তাওহীদের জুটি গড়েছে কয়েকটি রেকর্ড। তাদের দুজনের ১৫৪ রান এখন ষষ্ঠ উইকেটে চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফির ইতিহাসেরই সর্বোচ্চ। আগেরটি ছিল এতদিন দক্ষিণ আফ্রিকার জাস্টিন কেম্প ও মার্ক বাউচার। ২০০৬ আসরে ভারতের বিপক্ষে তারা করেছিলেন ১৩১ রান।
ওয়ানডেতে বাংলাদেশের ষষ্ঠ উইকেটে সর্বোচ্চ রানের জুটিও এখন তাওহীদ-জাকেরের। মজার ব্যাপার হল, ষষ্ঠ উইকেটে বাংলাদেশের সর্বোচ্চ রানের আগের জুটিতেও ছিল জাকেরের নাম। গত বছর ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে তিনি ও মাহমুদউল্লাহ মিলে যোগ করেছিলেন ১৫০ রান।
জাকেরের বিদায়ের পর ছোট তবে কার্যকর ক্যামিও উপহার দেন রিশাদ হোসেন। বাঁহাতি স্পিনার কুলদীপকে হাঁকান টানা দুই ছক্কা। তার ব্যাট থেকে আসে ১৮ রান।
এরপর ঝড় তুলতে পারেননি তাওহীদ, কারণ হ্যামস্ট্রিংয়ে আঘাতের কারণে বারবার মাঠেই লুটিয়ে পড়েছেন তিনি। দৌড়ে সেভাবে রানও করতে পারেননি। তবে লড়িয়ে মানসিকতার পরিচয় দিয়ে শেষ পর্যন্ত ব্যাট করেছেন, পেয়েছেন সেঞ্চুরির দেখাও।
শেষ ব্যাটার হিসেবে তাওহীদ আউট হয়েছেন ঠিক ১০০ রানেই। ১১৮ বলের ইনিংস সাজান ৬টি চার ও ২ ছক্কায়। চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফির ইতিহাসে নবম ব্যাটার হিসেবে তাওহীদ টুর্নামেন্টে নিজের প্রথম ম্যাচেই করেছেন সেঞ্চুরি। বাংলাদেশের ব্যাটারদের মধ্যে তার আগে চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফিতে সেঞ্চুরি ছিল কেবল সাবেক ওপেনার তামিম ইকবালের। ৫৩ রানে ৫ উইকেট নিয়ে ভারতের সেরা বোলার শামি।
সংক্ষিপ্ত স্কোর
বাংলাদেশ- ২২৮/৯ (৪৯.৪ ওভার) (তানজিদ ২৫, সৌম্য ০, শান্ত ০, মিরাজ ৫, তাওহীদ ১০০, মুশফিক ০, জাকের ৬৮, রিশাদ ১৮, মোহাম্মদ শামি ৫/৫৩, হার্শিত রানা ৩/৩১)