চ্যাম্পিয়নস ট্রফির আগে ব্যাট হাতে আরেকবার জ্বলে উঠলেন শুবমান গিল। প্রথম দুই ম্যাচে ফিফটি করা ওপেনার এবার উপহার দিলেন চমৎকার সেঞ্চুরি। সঙ্গে অন্যদের অবদানে সাড়ে তিনশ ছাড়ানো পুঁজি গড়ল ভারত। ইংল্যান্ড যেতে পারল না ধারেকাছেও। আরেকটি একপেশে লড়াইয়ে জিতে ওয়ানডে সিরিজে ইংলিশদের হোয়াইটওয়াশ করে ছাড়ল রোহিত শার্মার দল।
আহমেদাবাদে বুধবার তৃতীয় ওয়ানডেতে ভারতের জয় ১৪২ রানে। ৩৫৭ রানের লক্ষ্য তাড়ায় ইংল্যান্ড ২১৪ রানে গুটিয়ে গেছে ৩৪.২ ওভারেই। রানের হিসাবে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে ভারতের দ্বিতীয় বড় জয় এটি। ২০০৮ সালে রাজকোটে ১৫৮ রানে জিতেছিল তারা।
এবারের জয়ের নায়ক গিল। প্রথম দুই ম্যাচে ৮৭ ও ৬০ রানের পর এবার ১০২ বলে ১১২ রানের ইনিংস খেলেন তিনি। ১৪ চার ও ৩ ছক্কায় গড়া ইনিংসে ম্যাচ-সেরার স্বীকৃতি পান ২৫ বছর বয়সী ব্যাটসম্যান। তিন ম্যাচে ২৫৯ রান করে সিরিজের সেরাও তিনিই।
বড় লক্ষ্য তাড়ায় ১৭ ওভারে ২ উইকেটে ১২৩ রান তুলে ফেলেছিল ইংল্যান্ড। এরপর নিয়মিত উইকেট হারিয়ে দুইশ পেরিয়েই অল আউট হয়ে যায় তারা।
ভারতের হয়ে ২টি করে উইকেট নেন আর্শদিপ সিং, হার্শিত রানা, আকসার প্যাটেল ও হার্দিক পান্ডিয়া। প্রথম দুই ম্যাচে ভারত অনায়াসে জিতেছিল রান তাড়া করে। এবার আগে ব্যাটিং করেও ইংল্যান্ডকে স্রেফ গুঁড়িয়ে দিল স্বাগতিকরা।
এই সফরে টি-টোয়েন্টি সিরিজ ৪-১ ব্যবধানে হারের পর ওয়ানডে সিরিজ ৩-০তে হারল জস বাটলারের দল। চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফির আগে তাদের জন্য যা যথেষ্ট দুর্ভাবনার। ভারতের জন্য ম্যাচের শুরুটা হয় ‘হার’ দিয়ে। টানা দশম ওয়ানডেতে টস হারে তারা। নেদারল্যান্ডসের টানা সবচেয়ে বেশি ১১ ওয়ানডেতে টস হারের রেকর্ড চোখ রাঙাচ্ছে তাদের সামনে।
আগের ম্যাচের সেঞ্চুরিয়ান রোহিত এবার দ্বিতীয় ওভারেই ফেরেন ১ রান করে। এরপর কোহলি ও শ্রেয়াসের সঙ্গে দুটি শতরানের জুটিতে দলকে টানেন ৫০তম ওয়ানডে খেলতে নামা গিল। কোহলি ফিফটি পূর্ণ করেন ৫০ বলে। একটু পরই আদিল রাশিদের দারুণ ডেলিভারিতে বোল্ড হয়ে ফেরেন তিনি।
ইংল্যান্ডের এই লেগ স্পিনারের বিপক্ষে ওয়ানডেতে পাঁচবারসহ আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে ১১ বার আউট হলেন কোহলি, কোনো একজন বোলারের বিপক্ষে যা তার যৌথভাবে সর্বোচ্চ। নিউ জিল্যান্ডের টিম সাউদি ও অস্ট্রেলিয়ার জশ হেইজেলউডকেও ১১ বার করে উইকেট দিয়েছেন সাবেক ভারত অধিনায়ক।
১১৬ রানের দ্বিতীয় উইকেট জুটি ভাঙার পর তৃতীয় উইকেট জুটিতে আসে ১০৪ রান। গিল সপ্তম ওয়ানডে সেঞ্চুরি পূর্ণ করেন ৯৫ বলে। পঞ্চম ক্রিকেটার হিসেবে কোনো একটি নির্দিষ্ট মাঠে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে তিন সংস্করণেই সেঞ্চুরির কীর্তি গড়েন তিনি।
গিলের চমৎকার ইনিংস থামান রাশিদ। আগ্রাসী ব্যাটিংয়ে ৪৩ বলে ফিফটি করে ছুটছিলেন শ্রেয়াস। তাকেও থামিয়ে দেন রাশিদ। নিজের কোটার শেষ বলে পান্ডিয়াকে ফিরিয়ে চতুর্থ শিকার ধরেন তিনি। শেষ দিকে নিয়মিত উইকেট হারায় ভারত। তবে সবার ছোট ছোট অবদানে সাড়ে তিনশ ছাড়ায় তাদের সংগ্রহ। ২৯ বলে ৪০ রানের ক্যামিও ইনিংস খেলেন লোকেশ রাহুল।
রান তাড়ায় ইংল্যান্ডের শুরুটা ছিল আশা জাগানিয়া। প্রথম ৬ ওভারে বিনা উইকেটে ৬০ রান করে তারা। এরপরই জোড়া ধাক্কা, আর্শদিপ নিজের পরপর দুই ওভারে ফিরিয়ে দেন দুই ওপেনার বেন ডাকেট (২২ বলে ৩৪) ও ফিল সল্টকে (২১ বলে ২৩)।
তিনে নেমে দারুণ খেলছিলেন টম ব্যান্টন। তার ৪১ বলে ৩৮ রানের ইনিংস থামিয়ে দেন বাঁহাতি রিস্ট স্পিনার কুলদিপ। এরপর একটু একটু করে লড়াই থেকে ছিটকে যায় ইংল্যান্ড।
ভালো শুরু করেও ইনিংস টেনে নিতে পারেননি জো রুট ও হ্যারি ব্রুক। জস বাটলার ও লিয়াম লিভিংস্টোন যেতে পারেননি দুই অঙ্কে। গাস অ্যাটকিনসনের ১৯ বলে ৩৮ রানের ক্যামিওতে দুইশ ছাড়াতে পারে সফরকারীরা।
সংক্ষিপ্ত স্কোর:
ভারত: ৫০ ওভারে ৩৫৬ (রোহিত ১, গিল ১১২, কোহলি ৫২, শ্রেয়াস ৭৮, রাহুল ৪০, পান্ডিয়া ১৭, আকসার ১৩, ওয়াশিংটন ১৪, হার্শিত ১৩, আর্শদিপ ২, কুলদিপ ১* সাকিব ১০-০-৬৮-, উড ৯-১-৪৫-২, অ্যাটকিনসন ৮-০-৭৪-১, রুট ৫-০-৪৭-১, রাশিদ ১০-০-৬৪-৪, লিভিংস্টোন ৮-০-৫৭-০)
ইংল্যান্ড: ৩৪.২ ওভারে ২১৪ (সল্ট ২৩, ডাকেট ৩৪, ব্যান্টন ৩৮, রুট ২৪, ব্রুক ১৯, বাটলার ৬, লিভিংস্টোন ৯, অ্যাটকিনসন ৩৮, রাশিদ ০, উড ৯, সাকিব ২*; আর্শদিপ ৫-০-৩৩-২, হার্শিত ৫-১-৩১-২, ওয়াশিংটন ৫-০-৪৩-১, আকসার ৬.২-১-২২-২, পান্ডিয়া ৫-০-৩৮-২, কুলদিপ ৮-০-৩৮-১)
ফল: ভারত ১৪২ রানে জয়ী
সিরিজ: ৩ ম্যাচের সিরিজ ৩-০তে জয়ী ভারত
ম্যান অব দা ম্যাচ: শুবমান গিল
ম্যান অব দা সিরিজ: শুবমান গিল